মাইকেল মধুসূদন দত্ত (Michael Madhusudan Dutt)

১৮২৪ – বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত যশোহরের সাগরদাঁড়ি গ্রামের সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে ১৮২৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন বাংলার মহাকবি মধুসূদন দত্ত। পিতা ছিলেন রাজনারায়ণ দত্ত এবং মাতা জাহ্নবী দেবী।

১৮৩৩ – কপোতাক্ষ নদীর তীরে সাগরদাঁড়িতে বাল্যকাল অতিবাহিত করে কলকাতায় এসে ১৮৩৩ সালে ভর্তি হন হিন্দু কলেজে।

১৮৪২ – ইংরেজি ভাষায় স্ত্রীশিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধ রচনার জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে।

১৮৪৩ – পারিবারিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে রেভারেন্ট কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন এবং ৮ই ফেব্রুয়ারি ওল্ড মিশন চার্চে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন। পাদ্রী ডিলট্রি তাঁকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা দেন। তিনিই তাঁর নামকরণ করেন ‘মাইকেল’।

১৮৪৪ – ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তিনি হিন্দু কলেজ ছেড়ে ভর্তি হন বিশপস কলেজে। তিন বছর ছিলেন এই কলেজে।

১৮৪৭ – এই বছর তিনি মাদ্রাজ যাত্রা করেন এবং অর্থের প্রয়োজনীয়তায় মাদ্রাজ পুরুষ অরফান অ্যাসাইলামে ‘উশার’ হিসাবে কাজ করেন।

১৮৪৮ – মাদ্রাজ কন্যা ১৭ বছর বয়সী রেবেকা অক্টাভিসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৪৯ – ‘Madras Circulator’ পত্রে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘The Captive Ladie’ এবং ‘Visions of the Past’ প্রকাশিত হয় Timothy Penpoem ছদ্মনামে।

১৮৫১ – মাদ্রাজে থাকাকালীন ‘Hindu Chronicle’ পত্রিকার সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেন।

১৮৫৫ – ১৬ই জানুয়ারি পিতৃবিয়োগ ঘটে।

  • রেবেকার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
  • ফরাসি অধ্যাপকের কন্যা হেনরিয়েটার সাথে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ১৮৫৫ সালের ২০ ডিসেম্বর।

১৮৫৬ – কলকাতায় ফিরে ১২০ টাকা বেতনে জুডিসিয়াল ক্লার্কের পদে যোগদান করেন।

১৮৫৮ – সংস্কৃত রত্নাবলী নাটকের বঙ্গানুবাদের ইংরেজি ভাষান্তর করেন।

  • ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক রচনার পরিকল্পনা করেন।

১৮৫৯ – জানুয়ারিতে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘শর্মিষ্ঠা’।

  • বেলগাছিয়া নাট্যশালায় মহাসমারোহে ‘শর্মিষ্ঠা’ অভিনীত হয় ৩ রা সেপ্টেম্বর।

১৮৬০ – ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ এবং ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসন দুটি রচনা করেন।

  • এই বছর প্রকাশিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন।
  • পূর্ণাঙ্গ ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখেন।

১৮৬১ – বাংলা সাহিত্যের অদ্বিতীয় মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ’ রচিত ও প্রকাশিত হয়।  

  • বিদ্যোৎসাহিনী সভা কর্তৃক সংবর্ধিত হন।
  • মধুকবি রচিত প্রথম গীতিকবিতা ‘আত্মবিলাপ’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায়।
  • বৈষ্ণব সাহিত্যের বিরহিনী নায়িকা রাধাকে নিয়ে রচনা করেন ‘ব্রজাঙ্গনা’ কাব্যটি।

১৮৬২ – ‘Hindu Patriot’ পত্রিকার সম্পাদক হন জানুয়ারিতে।

  • ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলাতযাত্রা করেন ৯ই জুন।
  • রোমান কবি ওভিদের ‘The Heroides’ কাব্যের অনুসরণে রচনা করেন ‘বীরাঙ্গনা’ পত্রকাব্যটি।

১৮৬৬ – ফরাসি ভরসেলস নগর অবস্থানকালে শতাধিক বাংলা সনেট রচনা করেন।

  • ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ নামে ১০০টি সনেট সংকলন প্রকাশিত হয় কলকাতা থেকে।
  • ব্যারিস্টারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন নভেম্বরে।

১৮৬৭ – ফেব্রুয়ারিতে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন ক’রে কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টাররূপে যোগদান করেন।

১৮৭০ – ব্যারিস্টারি ছেড়ে হাইকোর্টের আপীলের অনুবাদ বিভাগে পরীক্ষকের পদ গ্রহণ করেন।

১৮৭২ – পুনরায় ব্যারিস্টারি পদে যোগদান করেন।

১৮৭৩ – অসুস্থাবস্থায় প্রেসিডেন্সি জেনারেল হসপিটালে তাঁকে ভর্তি করা হয়।

  • ২৬ জুন শেষ জীবনের সঙ্গী হেনরিয়েটার পরলোকপ্রাপ্তি ঘটে।
  • ২৯ জুন বাংলার মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ইহজীবনের চির-অবসান সাধিত হয়।